শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গৌরীপুর উপজেলা শাখায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo ডাক বাংলা প্রকাশনী’র ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও লেখক সংবর্ধনা ২০২৬ অনুষ্ঠিত: Logo ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি, ৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে মালিকানা Logo সবজির দাম চড়া, স্বস্তি নেই ডিম-পেঁয়াজেও Logo সাপাহারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে গেটকা প্রকল্পের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo জন্ম নেওয়া শিশুকে অস্বীকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কারাগারে Logo লোহাগাড়ায় লাঠির আঘাতে মাদরাসা সুপার নিহত Logo মা দিবসে পৃথিবীর সকল মাকে জানাই অনেক অনেক অনেক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ভালোবাসা Logo নেত্রকোণার  পূর্বধলায় রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে ওসির মাদক ও জুয়ামুক্ত  সমাজ গড়তে মত বিনিময় Logo সাপাহারে অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ, প্রশংসায় এমপি মোস্তাফিজুর
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ।  যোগাযোগঃ 01977306839

১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি, ৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে মালিকানা

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

মোঃ মতিউর রহমান জেলা রিপোর্টার বাংলাদেশ পঞ্চাশের দশকের কথা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন আলেপ উদ্দিন। বন্ধকি টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা চলে যায় টাউন চেয়ারম্যানের (বর্তমান পৌর মেয়র) কাছে। চেয়ারম্যান সেই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন। জমির আইনি দখল বুঝে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী আলেপ উদ্দিন। কিন্তু সুরাহা হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তার মৃত্যু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাদীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং আইনি লড়াই শুরু করেন। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, আরজি-আপিল চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ ৬৫ বছর আইনি লড়াই শেষে বুধবার নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছে বাদী পক্ষ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকার। বুধবার (১৩ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় বাদী পক্ষকে নালিশি জমির দখল বুঝে দেন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম। মামলার বাদী পক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজ পাড়ায়। আর বিবাদী বছির উদ্দিনের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতি পাড়ায়। বছির উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়ারিশ হিসেবে তার ছেলেরা মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমিটি আলেপ উদ্দিনের ওয়ারিশ আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেন এসিল্যান্ড। এ সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে জমিটির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা উড়িয়ে সাত্তার গংকে জমির দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি উপভোগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক জমির দখল স্বত্ব বুঝে পাওয়ায় বেজায় খুশি আব্দুস সাত্তারসহ চার ভাই। ৯ শতক জমির আইনি লড়াই হলেও সরেজমিন তাদেরকে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু জমি ছেড়ে দিতে হলেও সন্তান হয়ে বাবার জমি ফিরে পাওয়ায় ছেলেরা সন্তুষ্ট। আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমার বাবার লড়াই আমরা চালিয়েছি। এটা খুব সহজ ছিল না। জমিটিতে একসময় সরকার রিসিভার নিয়োগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নিতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি বেশি খুশি হতেন। আজ এতো বছর পর সন্তান হয়ে আমরা বাবার জমি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। এই জমি এখন আমাদের চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বণ্টন করে নেবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST