সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo গাইবান্ধায় জাফলং রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট: জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি, মানববন্ধনে ক্ষোভ Logo সাপাহারে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণের উদ্বোধন Logo খানসামার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌনপীড়নের অভিযোগে প্রিন্সিপাল সাজ্জাদুর গ্রেপ্তার Logo স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কারো সাথে কোন কম্প্রমাইজ নয়  ডাঃ শফিকুর রহমান  Logo নিখোঁজ সংবাদ Logo খানসামায় দুর্যোগপীড়িতদের সহায়তা, এতিমখানায় অনুদান ও শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার বিতরণ করেন হুইপ Logo নিখোঁজ ইসমাইলের সন্ধান চায় তার পরিবার Logo তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার Logo ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত Logo মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযানে২০৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার-০১
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ।  যোগাযোগঃ 01977306839

খানসামার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌনপীড়নের অভিযোগে প্রিন্সিপাল সাজ্জাদুর গ্রেপ্তার

 উজ্জ্বল রায়,খানসামা(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: / ৭ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ

 দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া মালোরপাড় এলাকায় অবস্থিত দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমির প্রিন্সিপাল সাজ্জাদুর রহমান (৩৭)-এর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ৮ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌনপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিনাজপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছে।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ,সন্ধ্যার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে খবর পেয়ে খানসামা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দীর্ঘ সময় পর রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় তাঁকে দিনাজপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাজ্জাদুর রহমান উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে খানসামা থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০৩ জুলাই ২০২৬-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাজ্জাদুর রহমানকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুল বাছেত সরকার বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ পুরো এলাকাকে মর্মাহত করেছে। তাঁদের ভাষ্য, শিশুদের জন্য বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা। তাই এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্থানীয়দের একটি অংশ আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনার পর থেকে দারুসসালাম নূরানী ইসলামী একাডেমি ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তা পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয়রা আরও বলেন, কোনো অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সাজ্জাদুর রহমান আইনগতভাবে একজন অভিযুক্ত। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই তাঁর অপরাধ বা নির্দোষিতা নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST