শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ বিকেল ৪টায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত থ্রি ফুট রেস্টুরেন্টে এ বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির সাংগঠনিক উন্নয়ন, কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্পোরাল মোঃ জামান মোল্লা। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল মোঃ সেলিম মিয়া, দপ্তর সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লিডিং রাইটার মনিরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্পোরাল মোঃ হানিফ তালুকদার। সভায় বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত করা, সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও জনকল্যাণমুখী ও গতিশীল করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় দেশের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন পে-স্কেলের আর্থিক সুবিধা যাতে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রেও দ্রুত কার্যকর হয় এবং তারা দ্রুত প্রাপ্য অর্থ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের দীর্ঘদিনের সেবা ও অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কল্যাণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লিডিং রাইটার মনিরুল ইসলাম সভায় বিশেষভাবে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনা করে তাদের জন্য আজীবন রেশন সুবিধা চালুর বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা কর্মজীবনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পরও তাদের কল্যাণ ও সম্মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তা অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হবে। সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা কর্মজীবনে দেশ ও জাতির নিরাপত্তা ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবন শেষে অবসর নিলেও তাদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তারা বলেন, তিন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ রাফা সোসাইটিকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের মূল্যবোধ তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রতিষ্ঠাতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও স্মরণীয় আয়োজন করার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সদস্যদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তিন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ রাফা সোসাইটির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সদস্যদের কল্যাণ এবং আগামী ২৪ অক্টোবরের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রতিষ্ঠাতা দিবস সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন