লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল ছাড়া সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় দালালদের আনাগোনা। গ্রাহকদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে কাজ করালে সহজেই সেবা মিললেও সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ (BRTA) সার্কেল কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ এবং গাড়ির নম্বর প্লেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম, হয়রানি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং প্রশাসনের অভিযানে এসব অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ-র দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. পদে পদে গ্রাহক হয়রানি ও সেবা প্রদানে বিলম্ব সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে এসে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ফিটনেস সনদের জন্য আবেদন করলে তাদের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। তবে দালালদের মাধ্যমে বা অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) দিলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে . দালাল চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কার্যালয়টি ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। অফিসের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পরোক্ষ মদদে এই দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। দালাল ছাড়া সাধারণ গ্রাহকদের সেবা পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে . দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে মে ২০২৫-এর অভিযান: দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আজগর হোসেনের নেতৃত্বে বিআরটিএ অফিসে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পদে পদে হয়রানি করার প্রাথমিক সত্যতা পায় অনুসন্ধানকারী দলবিগত বছরগুলোর অভিযান: এর আগেও ২০২০ এবং ২০১৯ সালে বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর দুদক অভিযান চালায় এবং দুর্নীতি দমন ও কার্যালয়টিকে দালালমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় . তদারকি ও বর্তমান পরিস্থিতি অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আকস্মিক পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুকরণ এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।