মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo সাপাহারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo গৌরীপুরে নজরুল ইসলাম সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির পরিচিতি সভা ও পুরস্কার বিতরণ Logo সীমান্ত পাহাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিজিবি,  সাপাহারে শুরু হলো মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ Logo বড়াইগ্রামে জামায়াতের বিশাল গণমিছিল: ‘জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে’ Logo ফুলপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান Logo ৫ ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শার্শায় শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য আটক করেছে বিজিবি Logo ডিহি ইউনিয়নে জনসেবায় পরিচিত মুখ মোঃ ওলিয়ার রহমান সরদার, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বাড়ছে আলোচনা Logo গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনিয়মে ক্ষোভ—ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় এমপি আজীজুর রহমান : ব্যবসায়িক চিন্তা ছেড়ে মানবিক সেবা দিন
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ।  যোগাযোগঃ 01977306839

সকাল হলেই সাজানো হয় আগের দিনের ‘বাসি’ ভর্তা

Reporter Name / ২০৪ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ

 মোঃ মতিউর রহমান জেলা রিপোর্টার বাংলাদেশ বাহারি রকমের ভর্তার জন্য পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা। কম দামে নানা স্বাদের ভর্তা শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের কাছে এ স্থানটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে ভর্তার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। তবে এ বাহারি আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে খাদ্যমান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনেক দোকানেই রাতের অবশিষ্ট ভর্তা পরদিন সকালে নতুন করে সাজিয়ে বিক্রি করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, বটতলার একটি খাবারের দোকানে রাতে ভর্তা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই হোটেলের এক কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ভর্তায় পেঁয়াজ দেওয়া হয়নি, তাই এটি ৭ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। তবে পরদিন সকালে একই দোকানে গেলে ওই কর্মচারী দাবি করেন, ভর্তাটি সকালেই তৈরি করা হয়েছে। পরে রাতের তোলা ছবি দেখানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু একটি দোকানই নয়, একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে অন্য হোটেলগুলোতেও। রাতের বেলায় অতিরিক্ত ভর্তা পড়ে থাকতে দেখা গেলেও, দোকানিদের দাবি, এসব ফেলে দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা যায়, সেগুলোই বিভিন্ন রকম ভর্তা হিসেবে সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে এসব ভর্তার মধ্যে পাথর বা পোকামাকড় পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবার সত্ত্বেও এই বটতলার প্রতি মানুষের কেন এত আগ্রহ? জানতে চাইলে ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, মূলত খাবারের মূল্য অন্য জায়গার তুলনায় কম ও খাবার মুখরোচক হওয়ায় তারা এখানে আসেন। আর শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ে খাবারের আইটেম সীমিত ও খাবারের মান বটতলার তুলনায় নিম্নমানের হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই এখানে খাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাদাম ভর্তা, সরিষা ভর্তা, পেঁপে ভর্তা, ডাল ভর্তা, শিম ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কালিজিরা ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ঢ্যাঁড়শ ভর্তা, টমেটো ভর্তা, আলু ভর্তা, লাউশাক ভর্তা, কলা ভর্তা, কচু ভর্তা, রসুন ভর্তা, ডিম ভর্তা, মরিচ ভর্তা। এছাড়া শুঁটকি মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, রুই মাছের ভর্তা, চিকেন ভর্তা, লইট্টা শুঁটকিসহ বাহারি ভর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বটতলার এসব মুখরোচক খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বাহারি এসব খাবারে রয়েছে বেশ স্বাস্থ্যঝুঁকি। যে কারণে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। আবার এসব খাবারের কারণে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের সমস্যায়ও ভুগছেন অনেকেই। প্রতিদিন অনেকেই বিভিন্ন পেটের পীড়া বা গ্যাস্ট্রিকের মতো রোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে। চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, রাতের খাবারের সঙ্গে পরের দিনের খাবার মিশিয়ে বিক্রয় এবং সেগুলো খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বটতলার খাবার অনেক বেশি অস্বাস্থ্যকর। একজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন এগুলো খেলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগতে পারে। কয়েক বছর ধরে নিয়মিত কেউ যদি বটতলার খাবার খায়, তবে তার শরীরের দুই ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা যেমন পেট ব্যথা, বমি সৃষ্টি করে অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস্ট্রিক, আলসার, লিভারসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST