সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo সাপাহারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo গৌরীপুরে নজরুল ইসলাম সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির পরিচিতি সভা ও পুরস্কার বিতরণ Logo সীমান্ত পাহাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিজিবি,  সাপাহারে শুরু হলো মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ Logo বড়াইগ্রামে জামায়াতের বিশাল গণমিছিল: ‘জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে’ Logo ফুলপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান Logo ৫ ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শার্শায় শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য আটক করেছে বিজিবি Logo ডিহি ইউনিয়নে জনসেবায় পরিচিত মুখ মোঃ ওলিয়ার রহমান সরদার, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বাড়ছে আলোচনা Logo গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনিয়মে ক্ষোভ—ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় এমপি আজীজুর রহমান : ব্যবসায়িক চিন্তা ছেড়ে মানবিক সেবা দিন
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ।  যোগাযোগঃ 01977306839

সবজির দাম চড়া, স্বস্তি নেই ডিম-পেঁয়াজেও

Reporter Name / ১৭৯ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

মোঃ মতিউর রহমান জেলা রিপোর্টার বাংলাদেশ সবজির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী দাম, ভোক্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ। একশ’ টাকার নিচে সবজি মিলছে হাতে গোনা কয়েকটি। বেগুন, করলা, বরবটি থেকে শুরু করে কচুমুখীসহ সব ধরনের সবজির দামই এখন চড়া। একই সঙ্গে স্বস্তি নেই ডিম ও পেঁয়াজের বাজারেও। শুক্রবার (১৫ মে) চট্টগ্রাম রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার ও নারিন্দা বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উৎপাদনও সীমিত। এসব কারণেই দাম বেড়েছে বলে তারা জানান। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কচুমুখী ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শশা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাস ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে বাজারে বর্তমানে দেশি ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রায়সাহেব বাজারের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। কলতা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া, এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে কম। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বেশি বলে তিনি জানান। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রাম রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী বরকত উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আজ বাজারে এসে দেখছি সব সবজি অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার নিচে কোনও সবজি নেই। হাতে গোনা দুই-এক ধরনের সবজি ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস, মুরগির দাম তো আগেই বেশি, এখন ডিমের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে সবজির দামও যদি এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কী খাবে? একটি সবজির কেজি ১০০ টাকা—এটা কল্পনাও করা যায় না।’’ তিনি আরও বলেন, আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতারা যার যার মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সবজির বাজারে কোনও মনিটরিং চোখে পড়ে না। মনিটরিং থাকলে অন্তত কেউ এভাবে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারত না তিনি আরও বলেন, মাছ-মাংস তো কিনতেই পারেন না। আগে মাঝেমধ্যে ডিম কিনতেন, এখন ডিমের দামও বেড়ে গেছে। কী করবেন, কিভাবে চলবেন—তা বুঝতে পারছেন না। সংসার চালানো দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে বলেও জানান তিনি। এদিকে সবজির চড়া দামের কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরও বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে। চট্টগ্রামে রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাই এখন ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারিতেও ডিমের দাম বেড়েছে। তারা বেশি দামে কিনছেন বলেই খুচরা বাজারেও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST