মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo সাপাহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে দম্পতির ওপর হামলা, গুরুতর আহত Logo আমের বাণিজ্যিক রাজধানী সাপাহারে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন Logo ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নেত্রকোনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রত্যাহারের দাবি Logo তালা বাজার পেশাজীবি মোটরসাইকেল চালকের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন- সভাপতি মুসা,সম্পাদক মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ জাকির Logo শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার-০১ জন Logo শার্শায় গণধর্ষণ মামলার তিন আসামি দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত Logo সাপাহারে মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত Logo খালপাড় ও সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, মেয়রের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী Logo নেত্রকোনায় সম্মিলিত মানবাধিকার জোটের সাংগঠনিক উন্নয়ন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ।  যোগাযোগঃ 01977306839

ফেইসবুক পেইজ’র অর্থ দিয়ে এতিমদের গোশ-ভাত খাওয়ালেন কন্টেন্টর রাসেল ইসলাম

কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ৮৭৫ Time View
Update : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:০৫ অপরাহ্ণ

প্রায় ৪৩ হাজার ফলোয়ার নিয়ে একজন “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর” হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করে চলেছে “রাসেল” নামের ফেইসবুক পেইজ। পেইজটি পরিচালনা করে থাকেন রাসেল ইসলাম নিজে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি এ কাজটি চালিয়ে যান। ২০২২ সালের ০২ জানুয়ারী শুণ্য ফলোয়ার নিয়ে “রাসেল পেইজ” চালু করে নতুন তথ্য, অভিজ্ঞতা, এবং জ্ঞানকে বিভিন্ন ফরম্যাটে তৈরি করে ফেইসবুকে শেয়ার করে থাকে পেইজটি। এরজন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে যেমন- লেখা, ভিডিও, অডিও, ইমেজ, ইনফোগ্রাফিক, ব্লগ পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, পডকাস্ট, ই-বুক, এবং আরও অনেক কিছু সহকারে কন্টেন্ট তৈরী করে তথ্য প্রদান, পাঠকদের বা দর্শকদের নতুন তথ্য জানানো বা তাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে বিনোদন প্রদান,মজা দেওয়া বা তাদের মনোরঞ্জন করা,শিক্ষা প্রদান করা, শিক্ষামূলক কন্টেন্ট তৈরি করা। এসকল কৃতকর্মের উপর ভিত্তি করে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ “রাসেল পেইজ”কে অর্থ প্রদান করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় কন্টেন্ট তৈরী করার উদ্দেশ্যে রাসেল ইসলাম পৌছে যান যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ১০ নং নাভারণ ইউনিয়নাধীন শ্যামলাগাছি “হযরত শাহজালাল(র.) লতিফিয়া মডেল মাদরাসা ও এতিমখানায়”। সেখানে এতিম শিশুদের সাথে তিনি কথা বলে জানতে পারেন তাদের খাওয়া-দাওয়ার কষ্টের কথা। এরপর তিনি ঐ এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলে আজ শুক্রবার(২৭ ডিসেম্বর) ফেইসবুক থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রায় ১০০(একশত) এতিম শিশুদেরকে দুপুরে গোশ-ভাত,সবজি,ডাল,দই পরিবেশন করেন সাথে “সেভেন আপ”, “কোকাকোলা” ও ছিল খাদ্যের তালিকায়। তথ্য সংগ্রহ করতে ঐ এতিমখানায় গেলে এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক-উদ্ভাবক মো.মিজানুর রহমান আদ্যপান্ত জানিয়ে বলেন,শ্যামলাগাছি লতিফিয়া এতিমখানা ছাড়াও তিনি আরও ২টি এতিমখানা পরিচালনা করে থাকেন। এসব এতিমখানা সাধারণ মানুষের দেওয়া অর্থের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে, অন্যান্য দাতা ব্যাক্তিদের পাশাপাশি ৩টি এতিমখানা পরিচালনার জন্য তিনি একজন পৃষ্ঠপোষকের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন,শতভাগ অর্থ সাহায্যদানকারী ব্যাক্তিটি’র নাম মরহুম হাজী মনোহর আলী মাষ্টার(সিলেট পাখি বাড়ীর স্বত্বাধিকারী)। তার ছেলে সন্তানেরা এখন লন্ডন প্রবাসী। মূলত তাদের পাঠানো বেশিরভাগ অর্থ দ্বারা ৩টি এতিমখানা পরিচালিত হয়ে থাকে। বাকি ২টি এতিমখানার অবস্থান পার্শবর্তী উপজেলা ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নাধীন উত্তর দেউলিয়া ও রঘুনাথপুর(বাকি) গ্রামে। বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক সংলগ্ন শ্যামলাগাছি এতিমখানার জমির পরিমান-১২ শতক,উত্তর দেউলিয়া এতিমখানার জমির পরিমান-১০শতক এবং রঘুনাথপুর(বাকি) এতিমখানার জমির পরিমান-১৬ শতক। এ সকল এতিমখানায় মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা-প্রায় ১২০ জন,শিক্ষকের সংখ্যা-৭ জন। শিক্ষকদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় মাসিক ৭০(সত্তর) হাজার টাকা। বাবুর্চি বাবদ ব্যয়-৭(সাত) হাজার টাকা,অফিস সহকারীদের বেতন বাবদ-২০(কুড়ি) হাজার টাকা। সবমিলিয়ে ৩টি এতিমখানার মোট মাসিক ব্যয়-৩.৫০.০০০(তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বর্তমানে ০৩ এতিমখানায় খাদ্য সামগ্রী ক্রয় বাবদ ও এতিমখানার অবকাঠামো উন্নয়নে রড,সিমেন্ট ক্রয় বাবদ ০৩(তিন) লাখ টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এতিমখানা সম্পর্কে জানতে কিংবা কোন সহৃদয় ব্যাক্তী এতিম শিশুদের সাহাযার্থে নগদ অর্থ পাঠাতে চান,তাহলে এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো.মিজানুর রহমানের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইল নাম্বার-০১৭১৮৮৪৮৩৭৭। উল্লেখ্য,একের পর এক উদ্ভাবনে চমকে দিয়েছেন যশোরের মোটরসাইকেল মেকানিক মিজানুর রহমান। যশোরের শার্শা উপজেলার এই মোটরসাইকেল মেকানিকের অ্যাকাডেমিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও আজ সে নিজের আলোয় আলোকিত। নতুন চিন্তা আর চেষ্টায় এখন পর্যন্ত তার আবিষ্কারের সংখ্যা ৮ এর অধিক। শার্শার নিজামপুর ইউনিয়নের আমতলা গাতিপাড়ার অজপাড়াগাঁয়ে ১৯৭১ সালের ৫ মে মিজানুর রহমানের জন্ম । বাবা আক্কাস আলী ও মা খোদেজা খাতুন। বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। বাবা-মার ৬ সন্তানের মধ্যে মিজান পঞ্চম। বর্তমানে শার্শার শ্যামলাগাছিতে মিজানুর বাস করেন। দারিদ্র্যতার কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি মিজান। ৮-৯ বছর বয়সেই বেঁচে থাকার তাগিদে নেমে পড়েন মজুরের কাজে। মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো এবং মেরামতের কাজ করেন। পরে নাভারণ বাজারে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান তিনি। সেখান থেকেই তার মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু । বর্তমানে শ্যামলাগাছি এতিমখানায় তিনি একটি ট্রেনিং সেন্টার ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST