নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকলেও মনটা আমার সব সময় দেশেই থাকে। এলাকার প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা নদী খাল বিল সব সময় আমাকে টানে। মনে পড়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবার পরিজন ও এলাকার মানুষের কথা। দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটালেও নিজের জন্মভূমির প্রতি টান কখনোই ফিকে হয় না। এমনই এক আবেগঘন গল্প লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসানের। একান্ত আলাপাচারিতায় এমন অনুভুতি ব্যাক্ত করেন বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাকের ছেলে লন্ডন প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসান। ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসান বলেন,লন্ডলে থাকলেও স্বজনদের মুখগুলো বার বার মনে পড়ে। কাজ করতে ইচ্ছে হয় না। মনে হয় সবকিছু ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে যাই। কিন্তু না, সময় এবং পরিস্থিতি তা করতে দেয় না, কেননা বিদেশ থেকে দেশে চলে যাই তবে আপন মানুষগুলো অর্থকষ্টে ভুগবে। তাদের সুখের কথা ভেবেই থাকতে হয়। কষ্ট হলেও যাতে তার প্রিয় মানুষগুলো একটু ভালো থাকে,একটু স্বস্তিতে থাকে, একটু সুন্দর থাকে। সে যেন পরবর্তীতে দেশে ফিরে আপন মানুষগুলোর হাসিমুখ দেখতে পারে। জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় ৬ বছর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাড়ি জমান সাঈদ হাসান ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হলেও মনের টান পড়ে থাকে নিজের গ্রামের মাটিতে। সুযোগ পেলেই দেশে ফিরে আসেন তিনি, খোঁজখবর নেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের। এলাকার উন্নয়নেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তার পরিবারের ৬ জন এখন লন্ডনে রয়েছেন। লন্ডনে শত ব্যস্ততার মাঝে থেকেই নিয়মিত খোজঁ খবর রাখেন এলাকার মানুষের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সরব থাকেন তিনি। সম্প্রতি বকশীগঞ্জে দিনের বেলায় প্রায় ৬০ বছর বয়সী আকালু মিয়া নামে একজনের একটি অটোভ্যান ছিনতাই হয়। ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন আকালু মিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাঈদ হাসানের নজরে আসেন। তাৎক্ষনিক তিনি আকালু মিয়াকে একটি ভ্যান ও নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেন। তার দেওয়া ভ্যান ইউএনও আকালু মিয়ার হাতে তুলে দেন। এছাড়াও তিনি এলাকার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় অনুদান,নদী ভাঙন কবলিত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা,গরীব অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতে সহায়তা,এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সহ্য়াতা করে আসছেন নিয়মিত। এবং গরীব আত্মীয় স্বজনের বিপদে সব সময় পাশে থাকেন তিনি। ইতোমধ্যে তার সামাজিক কর্মকান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছেন লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবাসে থেকেও ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসান এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে সহায়তা করে আসছেন। মসজিদ-মাদরাসা সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগে তার অবদান প্রশংসিত হয়েছে এলাকাজুড়ে। এমন উদ্যোগ অন্য প্রবাসীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তাদের মতে, দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হাসান বলেন,বিদেশে থাকি ঠিকই, কিন্তু মন পড়ে থাকে নিজের এলাকায়। এখানকার মানুষজন, পরিবেশ সবকিছুই আমার কাছে খুব আপন। প্রবাসে থাকা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় যে টান তা হলো নাড়ির টান। এই টানের কারণেই একজন প্রবাসীকে দেশ নিয়ে ভাবায়, ভাবায় তাকে ভালো কিছু নিয়ে তার দেশের কাছে,তার নাড়ির কাছে ফিরতে হবে। নইলে তার প্রবাস জীবন ব্যর্থ। আমি বিশ্বাস করি বিদেশে থাকলেও দেশের প্রতি এলাকার মানুষের প্রতি আমার দ্বায়বদ্ধতা আছে। তাই যতটুকু পারি সমাজের জন্য ও এলাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিদেশে থাকলেও আমি সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে চাই। কোনও গরীব অসহায় মানুষের মুখে হাসি দেখলে আমি শান্তি পাই। এই শান্তি টাকা দিয়ে কেনা যাবে না। আমার চাওয়া পাওয়া কিছু নাই,এলাকার মানুষের কাছে শুধু দোয়া চাই