দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় দুর্যোগপীড়িত পরিবারের সহায়তা, বেসরকারি এতিমখানায় অনুদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের হুইলচেয়ার বিতরণ এবং একটি এইচবিবি সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, এমপি। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক সহায়তার চেক এবং শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১ হাজার ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি এইচবিবি সড়কের উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি এলাকার মানুষের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২৭টি বেসরকারি এতিমখানার প্রতিনিধিদের হাতে মোট ৬১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে এসিস্টিভ ডিভাইস হিসেবে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস, খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বাছেত সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী (বিএসসি), জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপকারভোগী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।