নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ কদমতলা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে পবিত্র মসজিদের জমি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মুসল্লিরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা জানান, মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ কমপ্লেক্স জামে মসজিদটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মরহুম হারুনুর রশীদ খান (সাবেক জেলা জজ), মরহুমা আঞ্জুমানারা বেগম এবং সুরাইয়া চৌধুরী মসজিদের জমি দান করেন এবং যথাযথভাবে দখল বুঝিয়ে দেন। সংশ্লিষ্ট বৈধ দলিলপত্র বর্তমানে মসজিদ কমিটির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করে এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের জমি একটি ভূমিদস্যু গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে আদালত ওই মামলা খারিজ করে দিলেও চক্রটির অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। বরং তারা বারবার মসজিদের জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভূমিদস্যু চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে রওশন আক্তার। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, সবুজবাগ থানা ছাত্রদল সভাপতি আনোয়ারুল হক শরীফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি জড়িত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও নারী সরবরাহসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সমাবেশে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রওশন আক্তার প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং মুসল্লিদের নামে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে। তার পোষা সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায়ও বিঘ্নিত হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, শুধু মসজিদের জমিই নয়—এলাকার যেকোনো জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে রওশন আক্তার স্বল্প মূল্যে তা ক্রয় করে পরে সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে দখল করে নেয়। তারা আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রওশন আক্তার কৌশল পরিবর্তন করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে আবারও মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং অবৈধ দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সদস্যদের গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সবুজবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে, যার নম্বর- ১৮৪৫। মানববন্ধনে মুসল্লিরা বলেন, বর্তমান সরকার খুনি-সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে তারা অবগত। তাই অবিলম্বে রওশন আক্তারকে গ্রেফতার করে মসজিদের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।