মোঃ মতিউর রহমান জেলা রিপোর্টার রোজা শুরুর প্রথম দিনে চট্টগ্রামের কাঁচা বাজারে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, তবে সবজির উচ্চমূল্য স্বস্তি দেয়নি ক্রেতাদের। তাদের অভিযোগ, রোজার সুযোগে বিক্রেতারা দাম বেশি নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ‘কম’ তাই দাম বেড়েছে। সবজির পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।সবমিলিয়ে রোজার প্রথম দিন চট্টগ্রামের বাজার ছিল গরম। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সবজি বাজার রেয়াজুদ্দিন বাজারে ঘুরে দেখা গেল, প্রায় সব ধরনের সবজি আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। মানভেদে আকারে ছোট টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরেও মিলছিল। অথচ দুই দিন আগেও মোটামুটি ভালো মানের টমেটো ৪০ টাকায় পাওয়া গেছে। প্রতি কেজি খিরা ১০০ টাকা, ছোট শসা ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, ধনে পাতা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৪৫ থেকে ৫০টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বেগুন মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, লাউ কেজি প্রতি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা বড় শসা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। অথচ এসব সবজি দুই দিন আগেও কেজি প্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কম দামে মিলছিল। ক্রেতারা বলছেন, রোজার মাসে ইফতারের সময় প্রয়োজনীয় খিরা, শসা, গাজর, বেগুন, লেবু, পুদিনা পাতার দাম ‘বাড়িয়ে দিয়েছেন’ বিক্রেতারা। ইফতারের জন্য শরবত বানাতে লেবু লাগে। রেয়াজুদ্দিন বাজারে বড় আকারের প্রতি জোড়া লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৪০ টাকা দরে। আর এক ডজন কিনলে দাম পড়ছিল ২০০ টাকা। শরবত আর ভাজা-পোড়ায় ব্যবহৃত পুদিনা পাতার কেজি ১১০ টাকা; এক আঁটি বিক্রি হচ্ছিল কুড়ি টাকায়। রেয়াজুদ্দিন বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আহমদ দৈনিক জন পদ বাংলাদেশ কে বলেন, “টমেটোসহ শীতকালীন সবজির দাম এ সময়ে অনেক কম থাকে।কিন্তু এ বছরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। সে কারণে দাম বাড়তি। রোজার অজুহাতে দাম বাড়ানোর কথা ঠিক নয়।” তিনি বলেন, “আমরা আড়ত থেকে কিনে বিক্রি করি, সেখানে দাম বেশি দিয়ে কেনায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” তবে রেয়াজুদ্দিন বাজারে চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য বাজারের চেয়ে কম দামে সবজি মেলে। নগরীর মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা, বক্সিরহাটসহ কয়েকটি এলাকার ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রেয়াজুদ্দিন বাজারে আসা ক্রেতা শফিকুল ইসলাম দৈনিক জন পদ বাংলাদেশ কে বলেন, “এখন শীতের সবজি চলে যাবার সময়, দাম অনেক কম হবার কথা, কিন্তু এবারে তা উল্টো। আবার বাজারে নতুন সবজি আসছে, স্বাভাবিকভাবে সেসবের দাম কিছুটা বাড়তি।” রোজা শুরুর সময় বলে বিক্রেতারা বাড়তি দাম নিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “রোজা শুরুর দিন গরমও একটু বেশি পড়ছে, বাজারেও এর আঁচ পড়েছে।” চট্টগ্রামের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের দাম আগের মতই আছে। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৯৫ থেকে দুইশ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১৬০ টাকা কেজি। অপরদিকে দেশি মুরগি ৬২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রেয়াজুদ্দিন বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছিল ১১০ টাকায়। নগরীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১০৫ টাকায়। রেয়াজুদ্দিন বাজারের মুরগি বিক্রেতা সাবির উদ্দিন দৈনিক জন পদ বাংলাদেশ কে বলেন, “পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। ফার্ম মালিকরা আমাদের বলেছে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই দামও আগের চেয়ে বাড়তি পড়ছে।“