সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ; সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়ন ঘিরে প্রশ্ন, খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা চায় সংশ্লিষ্ট মহল। শেষ পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত শনিবার (২৯ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। ফয়সাল ইমামের বিরুদ্ধে সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল ইমামের বক্তব্য জানা যায়নি। খোরশেদ আলমকে ঘিরেও প্রশ্ন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো যাচাই করে সরকার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম, যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে নীতিমালা ২০২৫ সার ব্যবস্থাপনা ও ডিলার নিয়োগ নিয়ে তৈরি নতুন নীতিমালা নিয়েও কৃষি মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত সার ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে ২০০৯ সালের নীতিমালা বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে ‘সার ব্যবস্থাপনা ও ডিলার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পর্যাপ্ত মতামত না নিয়েই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে, এমন অভিযোগও করেছেন সার ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের দাবির মধ্যেই সম্প্রতি নীতিমালাটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সার সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনের দাবি, বিতর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়নের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকট তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার প্রভাব মাঠপর্যায়ে পড়ছে। কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিএফএর সাবেক সহসভাপতি মো. অলিউর রহমানও নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি ও মতামত উপেক্ষা করে নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরির’ অভিযোগ অলিউর রহমান অভিযোগ করেন, নীতিমালা বাস্তবায়নের তৎপরতা সার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং এর ফলে কৃষি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তার এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বস্তি, নাকি আরও বড় প্রশ্ন? ফয়সাল ইমামকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সার ব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগ এবং নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সার ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা, দায়িত্বশীলদের ভূমিকা যাচাই এবং কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এদিকে যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।