নজরুল ইসলাম সওদাগর একটি নাম,একটি ইতিহাস। যাকে ছাড়া বকশীগঞ্জের রাজনীতি চিন্তাও করা যায় না। মানবতার নাম নজরুল,সাহসী চিন্তা চেতনার নাম নজরুল। যার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে সুবিধা করতে পারবেন না,তাকে দমানো যাবে না। কারন আপনারা জনবিচ্ছিন্ন। বকশীগঞ্জের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সওদাগরকে নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় এমন কথা বলেন,বকশীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কায়ছার আমীন। তিনি আরো বলেন,জাতীয়তাবাদী পরিবারে বেড়ে উঠা নজরুল ইসলাম সওদাগর একদিনে তৈরি হয়নি। নজরুল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী অতীত। সদর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে ছাত্রদল মনোনীত ছাত্রসংসদের দুইবার দায়িত্বে ছিলেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করছেন তা কখনোই সফল হবে না। কারন বকশীগঞ্জ পৌরবাসীর হৃদয়ে নজরুল স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপি নেতা সীমান্ত বলেন,আওয়ামীলীগের সাথে সর্ম্পক রেখে বিএনপির নিরাপত্তা প্রাচীর হিসেবে কাজ করেছে নজরুল ইসলাম সওদাগর। বকশীগঞ্জে রাজনীতিতে নজরুল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত নজরুল সব সময় অপ্রতিদ্বন্ধী। মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে জনগন এর জবাব দিবে বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন,নজরুল সওদাগরকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। নজরুল সওদাগর কিন্তু ভেসে আসেন নাই। বিএনপির দু:সময়ে নজরুলের কাছে সুবিধা নেন নাই এমন কোন নেতাকর্মী নই। অতীত ভুলে যায়েন না। আগে লেভেলে আসেন,পরে হয় সমালোচনা করবেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানান,২০১৪ সালে তার ভাই বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মানিক সওদাগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। সে সময় আবদুর রউফ তালুকদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় বকশীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো। বিএনপির সম্মেলন ঘিরে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম এবং বর্তমান বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গ্রুপে বিভক্ত হয় বিএনপি। আবদুর রউফ তালুকদার ছিলেন আবদুল কাইয়ুম গ্রুপে এবং মানিক সওদাগর ছিলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গ্রুপে। সম্মেলনে আবদুর রউফ তালুকদার সভাপতি হওয়ার পর মিল্লাতপন্থী হওয়ায় দল থেকে মানিক সওদাগর,নজরুল ইসলাম সওদাগর এবং বর্তমান বকশীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আনিসুজ্জামান গামাসহ অনেককে বহিস্কার করা হয়। এছাড়াও মিল্লাতপন্থী কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি। ষড়যন্ত্র করে ডাকাতিসহ একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় নজরুল ইসলাম সওদাগরকে। ক্ষোভে অভিমানে তৎকালীন আওয়ামীলীগের মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের সাথে সখ্যতা বাড়ান নজরুল ইসলাম। নজরুলের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে মন্ত্রী তাকে নিজের করে রাখতে চেষ্টা করেন। মন্ত্রীর সান্নিধ্য পেলেও আওয়ামীলীগের অনেক শীর্ষ নেতাই তখন নজরুলকে মনে প্রাণে মেনে নেয়নি। তবে মন্ত্রীর আর্শিবাদ পেয়েছেন নজরুল। এমপির সাথে ব্যাক্তিগত সর্ম্পক ও রাজনৈতিক সর্ম্পকের কারণেই বিএনপির নিরাপদ প্রাচীরে পরিনত হয় নজরুল ইসলাম সওদাগর। বকশীগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিএনপির নেতারা অনেক নিরাপদে থেকেই রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি তাদের। কমিটিতে যাওয়া : ২০১৬ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে বলেন,নজরুল আওয়ামীলীগের কেউ না। তখন মন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভেদ ছিল। বিজয়ের এই কথার পর তড়িঘড়ি করে সেই দিনই বকশীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক নেপালচন্দ্র সাহা স্বাক্ষরিত পৌর যুবলীগের একটি কমিটি দেয়া হয়। সেখানে নজরুল ইসলাম সওদাগর ছিলেন আহবায়ক। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন নজরুল। বিএনপি থেকে ফখরুজ্জামান মতিন,আওয়ামীলীগ থেকে শাহীনা বেগম নির্বাচন করেন। নির্বাচনে নজরুল প্রতি ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হন। তাকে মনোনয়ন প্রত্যহার এবং নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। কেন্দ্র,জেলা ও উপজেলার নেতারা তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগেন। দেশের বৃহৎ দুই দলের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর সাথে একাই লড়েন নজরুল। জনরায় নজরুলের পক্ষে থাকায় সকল বাধা অতিক্রম করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় যুবলীগ থেকেও তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। মেয়র নির্বাচিত হলেও তার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন আওয়ামীলীগের পরাজিত প্রার্থী শাহীনা বেগম। প্রায় ১ বছর আদালতের দরজায় ঘুরতে হয়েছে নজরুলকে। মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর রাস্তাঘাট,সড়কে লাইটিংসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেন। জনতার মেয়র হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। করোনাকালীন সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছেন সাবেক মেয়র। যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁন সবার আগে। সকল সামাজিক কর্মকান্ডে তার সরব উপস্থিতি থাকে সব সময়। আওয়ামীলীগের সাথে সখ্যতা থাকলেও নজরুল ইসলাম মেয়র থাকাকালে বিএনপির কোনও নেতাকর্মী হয়রানির শিকার হয়নি,এমনকি কারো বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বিপদে পড়লেই এগিয়ে যেতেন নজরুল। বিএনপি অফিসের সামনে মানববন্ধন থেকে বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও আহবায়ক ফখরুজ্জামান মতিনকে নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়েই থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে আনেন নজরুল ইসলাম সওদাগর। ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মামলা হয়। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং একটি হত্যা মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরপর তাকে তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুািলশ। যে সকল মামলায় তাকে আসামী করা হয়েছে সবগুলো মামলা ভুৃয়া। শুধুমাত্র উদ্দেশ্য প্রনোনীত ভাবে হয়রানি করতেই এসব মামলায় তাকে জড়ানো হয়। যার কোনটার সাথে সাবেক মেয়রের তিল পরিমান সম্পৃক্ততা নেই। ৭ মাস কারাগারে থাকার পর ২০২৬ সালে মার্চ মাসে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরপর থেকেই এলাকায় সমাজসেবা মুলক কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক আগেরমতো ধারাবাহিক ভাবে। যে কারনে বকশীগঞ্জে নজরুল ইসলাম সওদাগরের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। সামনে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন নজরুল। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তার ধারের কাছেও নেই কেউ। তাই নানা ভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে জানান তার সমর্থকরা। অপরদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বড় ভাই মানিক সওদাগরের হাত ধরেই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, আমার জনপ্রিয়তা দেখে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ৩টি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি আগামীতে মেয়র নির্বাচন করবো। তাই প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। ভোট দিবে সাধারণ জনগণ। আমাকে পছন্দ হলে ভোট দিবে.না হলে নাই। কিন্তু তারা নানাভাবে আমাকে হয়রানি করছে। তিনি বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমার পরিবারে। আমার ঘরে। আমার পরিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। যারা অপপ্রচার করছে তারা বিভিন্ন সময় ডিগবাজি দিয়ে বিএনপির ক্ষতি করেছে। কিন্তু আমার পরিবার তা করেনি। জনগন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে ইনশাআল্লাহ।