বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তুলায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট কায়দায় ২০২১ সালে নির্বাচিত রেজাউল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে ওনার (জামায়াত আমির) সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এই কথার মাধ্যমে উনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে অনেকটা সাপোর্ট করে গেছেন। গত রাতে আজাদীকে এসব কথা বলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এর আগে নগরের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে একজন মেয়র আছে, উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কী বলব আমরা? মেয়াদউত্তীর্ণ মেয়র, তাই না? এখন শুনি যে উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সাথে আপনি নেতৃত্ব দেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।’ এ বক্তব্যের জবাবে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আজকে আমরা একটা লং ড্রাইভ দেখেছি। এটাকে আমি লং মার্চ বলব না, একটা লং ড্রাইভ বলব। এবং যেখানে তারা বলছে– বিদ্যুৎ দে, পানি দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে। এত গ্যাস, ফুয়েল তারা ব্যয় করে আজকে একটা লং ড্রাইভ করেছে। তো সেখানে ঠিক আছে, তারা করেছে, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি তারা করতে পারে। মেয়র বলেন, ‘জামায়াতের সম্মানিত আমীর শফিকুর রহমান সাহেব মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়রের কথা বলেছেন আমাকে। আমি বলতে চাই, আমার এই রাইটটি ফ্যাসিবাদী রাজত্ব যারা ১৬ বছর কায়েম করেছে– হাসিনা সরকার, জোর করে আমার রাইটটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যিনি অবৈধভাবে মেয়র হয়েছিলেন রেজাউল করিম, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। আমি আদালতের রায়েই কিন্তু বৈধভাবে আমাকে মেয়র হিসেবে তারা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এবং আমি শপথ নিয়েছি। এবং রাইটটি হয়েছে ৫ আগস্টের পরে, ইন্টেরিম গভর্মেন্টের সময়। তিনি বলেন, জনগণের যে প্রত্যাশিত রায়, যেটার জন্য ৩ বছর ধরে আমি ফাইট করেছি, যে মামলাটি করার জন্য ৬ মাস ধরে আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে এবং বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ বছরে আমার বিরুদ্ধে প্রায় ১১০টির উপরে মামলা। মেয়র বলেন, রায়ে স্পষ্ট বলা আছে যে, আওয়ামী লীগের যে মেয়র ছিল সে অবৈধ এবং তার টেনিওর যেটা ছিল সেটাও অবৈধ। কাজেই আমার যে মেয়াদ ২০২৪ সাল, সেই ২০২৪ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমি শপথ নিয়েছি, সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবেই ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ থাকবে তিনি বলেন, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমি কিন্তু বারবার বলে এসেছি যে, যখনই চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচন করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। এবং ইতোমধ্যে আমার বক্তব্য আপনারা সব জায়গায় দেখেছেন, আমি বলেছি যে সবারই অধিকার আছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার এবং আমরা সবাই মিলেই একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আমরা করতে চাই।