আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকে প্রচারণাসহ নানাভাবে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। নির্বাচনে জয়ের জন্য এই আসনে এখন মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আঞ্চলিকতার পরিচয়। আসনটিতে চার প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। শেরপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, জামায়াত মনোনীত শেরপুর জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া ভিপি, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত নালিতাবাড়ী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ আল কায়েস এবং এবি পার্টি মনোনীত শেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ বাদশা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ব্যতীত বাকি তিন প্রার্থী নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। ফাহিম চৌধুরী একাই নকলা উপজেলার বাসিন্দা। এই দিক থেকে দলীয় সমর্থনের বাইরেও নকলাতেই এমপি ধরে রাখতে হবে এমন পণ নিয়ে কাজ করছেন নকলার ভোটার ও ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা। অপরদিকে প্রায় তিন যুগ ধরে নালিতাবাড়ী থেকে কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় এবার এই উপজেলা থেকে এমপি দেখতে চান স্থানীয়রা। নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে তিন প্রার্থী থাকলেও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। তবে ফাহিম চৌধুরী নকলার একক প্রার্থী থাকায় তার জন্য যোগপয়েন্ট রয়েছে। এবারের নির্বাচনের জোয়ারে নালিতাবাড়ীকেও ফেলে দেওয়া যায় না, যদিও এক উপজেলা থেকেই তিন প্রার্থী থাকায় কিছু ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। সূত্রমতে, শেরপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৫ জন। নকলা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ১২০ জন ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ জন। নকলার চেয়ে নালিতাবাড়ীতে ৯৯ হাজার ৭৯৫ টি ভোট বেশি রয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-২ আসন নকলা ও নালিতাবাড়ী দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। নকলা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এ আসনে ১৫৩টি স্থায়ী ও ১টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১৫৪টি কেন্দ্র এবং ৭৫৯টি স্থায়ী ও ৬১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষসহ মোট ৮২০টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, টানা তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের পর ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাবেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ দল মাঠে না থাকায় সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ছোট ছোট দলগুলো। শেরপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী ব্যপক জনপ্রিয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছেন তিনি। ফাহিম চৌধুরীর বাবা বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী এই আসনে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাহিম চৌধুরী এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বয়সের দিক দিয়ে কনিষ্ঠ হলেও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন। প্রায় এক বছর ধরে নকলা-নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে গিয়েছেন তিনি। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন তিনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস অনেকদিন ধরেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনিও হাত পাখার বিজয় ছিনিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি মনোনীত আবদুল্লাহ বাদশা প্রতিনিয়তই জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে তিনিও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজ অবস্থান থেকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি বলেন, ”এই আসনের কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার নিয়ে আমি মাঠে নেমেছি। আমি যেভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এতে করে আমি আশাবাদী নকলা-নালিতাবাড়ীবাসী আমাকেই বেছে নিবে ইনশাআল্লাহ।’ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করবো। বেকার ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ ও আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করবো। আমার বাবা যেভাবে নকলা-নালিতাবাড়ীর মানুষের সেবা করেছেন আমিও সেই দ্বারা অব্যহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।