মোঃ মতিউর রহমান জেলা রিপোর্টার বাংলাদেশ 01724356013 মহান বিজয় দিবসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরের উত্তর কাট্টলীতে সাগর তীরের টোল রোড-সংলগ্ন অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপর একে একে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুল দিতে আসা মানুষের হাতে ছিল ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, স্বাধীন বাংলার লাল সবুজ পতাকা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই চট্টগ্রাম থেকে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে স্বাধীন হয়েছি। আজকে বিজয়ের এই দিনে স্মরণ করছি লাখো শহিদদের, যাদের জীবনের বিনিময়ে, মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা একটা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ এদিকে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। অন্যদিকে, সকাল ১০টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সিটি করপোরেশন। বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে শিশু পার্ক, ডিসি পার্ক, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা শিশুদের জন্য উন্মুক্ত ও বিনা টিকেটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আউটার স্টেডিয়াম এবং লালদীঘি পাড়সহ বিভিন্ন জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ অন্য উপাসনালয়ে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।