মহিউদ্দিন তালুকদার , সিনিয়র রিপোর্টার নেত্রকোণা জেলা সদরের ৪ নং সিংহের বাংলা ইউনিয়নের রায়দুমরুহী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের পরিবার, ভূমি দস্যুীদের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। ঘটনাটি ঘটে ১১/৪/২০২৩ খি: সকাল আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময়। অভিযোগ মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত একই গ্রামের, ১। নয়ন মিয়া (৫০) ও২. নং জুয়েল মিয়া (৩৪) উভয় পিতা মৃত শামসুদ্দিন ৩. নং মোছা: শাহিনুর বেগম (৪০) ৪. রফিক মিয়া (৩২) জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়া শত্রুতা পোষণ করিয়া আসিতেছে।পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এ বিষয় নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই ভূমিতেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। বিজ্ঞ আদালতের, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিয়া ভূমিদূস্য ও তার লোকজন আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি লইয়া অনধিকার প্রবেশ করিয়া ঘটনার দিন কথা কাটাকাটি আরম্ভ করে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে মারধোর করিতে আসে । তখন ওই পরিবারের ডাক চিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসে । স্থানীয় লোকজন চলে আসার কারণে ভূমিদস্যরা, হুমকি প্রদর্শন করিয়া ভয়-ভীতি দেখাইয়া চলে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা কে নিয়ে মানহানিকর অশ্লীল কথা বলে। এবং বাড়ির উঠোনে দোকানের সামনে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ফেলে। পতাকা টানাতে নিষধ করে। পরে এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় আসিয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন চাকরি করেছি, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, দেশের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এনেছি, আজ আমি লান্ছিত। পাগল বেশে দেশে দেশে ঘুরেছি , খুঁজেছি স্বাধীনতা। যে কারণে নিজ সন্তানদের খোঁজখবর রাখতে পারিনি। দীর্ঘ বছর পর দেখি আমার জমি সম্পদ সব অন্যের দখলে চলে গেছে। আমি পাগল মানুষ আমার কথা কেউ শোনে না । মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই ভাগ্যে মেলেনি। এসব কথা বলার সময় আকাশের পানে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ। তিনি তার সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখতে চায়। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের ছেলে আমিনুল ইসলাম টিপু বাবার এ দুর্বল অবস্থা দেখে জানান, ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন আমাদের জমি দখল করে খাচ্ছে। এতে ওদের স্বাদ মেটে নি। এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রক্ত চায় । আমার বাবা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল দোকানের সামনে। ওই লোকেরা এ পতাকার অসম্মান করে। বর্তমানে আমার বাবার অবস্থা মানসিকভাবে খুবই খারাপ। মানসিক চাপে একেক সময় একেক কথা বলে। কান্নায় ভেঙে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান।তিনি জানান , জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে এই পর্যন্ত জমি সংক্রান্ত নয় টা মামলা করেছি,ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মামলার খরচ চালাতে হিম সিম খাচ্ছি, লোন তুলার কারনে অর্ধেক টাকা কেটে নিয়ে যায় , বাবাকে ভালো মন্দ কিছু খাওয়াতে পারে না। খুব কষ্ট হচ্ছে,’ মনে লয় মইরা যাই।’ আমাদের সম্পদ থাকতেও আমরা ভূমিহীন । আমাদের সম্পদ থাকতেও আমরা অসহায় জীবন যাপন করছি। ( সরকার থেকে আমাদের ভূমি বন্দোবস্ত দিলেও আমরা তা ভোগ করতে পারছি না।) সরকারের কাছে, আমার আকুল আবেদন থাকবে,আমাদের পাশে দাঁড়াবার জন্য। আমাদের উদ্ধার করার জন্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করছেন। কিন্তু আমরা তেমন কিছুই পাইনি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, আমাদের পাশে দাঁড়ানোর। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান, ভূমিদস্যুদের নির্যাতনের হাত থেকে আমরা বাঁচতে চাই। আমরা নিরাপদ আশ্রয় চাই। স্বাধীন একটি দেশ চাই। নিজ ভূমির দখল চাই। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি অবহেলিত। তাদের নিজভূমিতেও তারা টিকতে পারছে না। ভূমিদস্যুরা, ওরা খুবই শক্তিশালী, ওরা আইন মানে না। টাকার গরম দেখায় সব সময়। এবং ওরা সুদসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকে। এবং নয়ন চেয়ারম্যান এর লোক, গ্রামটাকে শেষ করে দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ মুখ খুলেনা নয়নের ভয়ে। নয়ন চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের ব্যবসা করে অনেক পরিবার কে নি:স্ব করে দিয়েছে বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকা বাসির নিকট থেকে জানা যায়, এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের দাদার তালুকদারী ছিল, তাদের অনেক সম্পদ ছিল, যা সুযোগ সন্ধানী ভূমিদস্যুরা এদের জায়গা দখল করে নেয়। এ বিষয়ে নয়ন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গাঁজার ব্যবসা করেন । এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। আমি একটু প্রতিবাদ করছিলাম আমিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মেয়ে বিয়ে করেছি, তার পর মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিয়ে করা কি খারাপ বলেন। আমিও মুক্তিযোদ্বার পক্ষে। মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে বিয়ে করেছি। তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে, বলে কি দেশের মানুষ সবাই চলে যাবে। আমাদের এখানে যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল, তাদের কাছে একটা কাগজ নিয়ে যায় ঐ মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। তারা তার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে চেনেনা। তারা বলেন তাকে আমরা দেখি নাই মুক্তিযোদ্ধা করতে। তাই সই দেয়নি মুক্তিযোদ্ধা আ: রহিম (সাবেক চেয়ারম্যান) আমার শ্বশুর মুক্তিযোদ্ধা আবু জজ খান। তারা স্বীকৃতি দেন নি। আমি একটা গন পিটিশন প্রস্তুত করতেছি, তার আপন চাচাত ভাই আমার সাথে আছে ইত্যাদি কথা বলে ফোন রেখে দেন।