শামীম তালুকদার,নেত্রকোণা নেত্রকোণায় ” বিজয় একাত্তর”ত্রৈমাসিক সাহিত্য ও গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন ও কবি সম্মাননা অনুষ্ঠানে ‘নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন সম্মাননা–২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে সূফী কবি, চিন্তক ও সংস্কৃতি কর্মী এনামূল হক পলাশ–কে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ) বিকেলে নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী আর্য গৃহে নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক অনন্য সাহিত্য–সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী–র সভাপতিত্বে এবং কবি সাইফুন্নাহার–এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বিজয় একাত্তর সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ননী গোপাল সরকার। তিনি বলেন, “লোকসাহিত্য ও জনগণের সংস্কৃতি নিয়ে কবি এনামূল হক পলাশ যে তাত্ত্বিক অবস্থান উপস্থাপন করেছেন, তা আমাদের সংস্কৃতিকে নতুন করে পুন :র্নির্মাণে সহায়ক হবে। এমন একজন চিন্তককে সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।” আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী এ কে আজাদ পিন্টু, কবি কামাল হোসাইন ও চারণ কবি মুকলেছ উদ্দিন। কবি তানভীর জাহান চৌধুরী বলেন, “আমাদের সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতা প্রকট। কবি এনামূল হক পলাশ সেই শূন্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শক্তিমান লেখক। এই সম্মাননা তার প্রাপ্য স্বীকৃতি।” কবি কামাল হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, “এনামূল হক পলাশকে সামনে থেকে না দেখলে তার বিশাল কর্মযজ্ঞ অনুধাবন করা যায় না। নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন তাকে খুঁজে বের করে সম্মানিত করে সত্যিই একটি দায়িত্বশীল কাজ করেছে।” সম্মাননা গ্রহণ করে সূফী কবি এনামূল হক পলাশ তার গভীর চিন্তাশীল বক্তব্যে বলেন— “এই ভূখণ্ড বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক স্পেস নিয়ে টিকে আছে। কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই এখানে সংস্কৃতির ঐক্য স্থির হয়েছে। প্রতীকী অর্থে স্বাধীন ঢাকা বাংলাভাষীদের সাংস্কৃতিক কেবলা হলেও, সেই কেবলার মূল উপাদান আজও জীবিত আছে পূর্ব- মৈমনসিংহে—অর্থাৎ নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের অংশবিশেষে।” অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত লেখক, কবি ও শ্রোতাদের মাঝে’ বিজয় একাত্তর ‘সাহিত্য পত্রিকার পঞ্চম বর্ষের একাদশ সংখ্যা বিতরণ করা হয়। কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আব্দুস সালাম, নেত্রকোণা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি কনক পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক ও প্রাবন্ধিক খন্দকার অলিউল্লাহ, কবি কল্পনা ঘোষ, রীমি ফেরদৌসী, দেলোয়ার হোসেন মাসুদ, পহেলি দে, গোপালকৃষ্ণ সরকার, ফয়জুল হাসান কবির, সাংবাদিক তানভীর হায়াত খান, আব্দুর রহমান, শিক্ষক ও সাংবাদিক শামীম তালুকদার সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য গুণীজন। উল্লেখ্য, নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন প্রতি বছর একজন কৃতী কবিকে অর্থমূল্যসহ সম্মাননা প্রদান করে থাকে। এবছরের সম্মানিত কবি এনামূল হক পলাশ বাংলা ভাষার সহজিয়া ধারার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি, ভাবুক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, শিশু সাহিত্যিক ও গীতিকার। তিনি সম্পাদনা করেন সাহিত্য পত্রিকা ‘অন্তরাশ্রম’ এবং একই নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে ছিলেন অগ্রসারির যোদ্ধা। সাম্প্রতিক সময়ে জনগণের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে করে তুলেছে একজন আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাই এই সন্ধ্যা শুধু একটি সম্মাননার নয়— এ ছিল কবিতা,ইতিহাস,ঐতিহ্যও সংস্কৃতির এক দীপ্ত উদযাপন।