উজ্জ্বল রায়,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় নিজ শয়ন ঘরে বাঁশের সরে (ছাদের কাঠামো) ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে জরিনা বেগম (৪০) নামের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন।এ ঘটনার পর থেকে মৃত্যু জরিনা বেগমের স্বামী নাজির উদ্দিন পলাতক রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আনুমানিক সকাল ৯:০০ টার দিকে উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট আদর্শগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে থানা পুলিশ। মৃত্যু জরিনা বেগম ওই এলাকার কৃষক নাজির উদ্দিনের স্ত্রী ও একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে।তার একটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,সকালে এলাকার মোড়ে চায়ের দোকানের পাশে মৃত্যু জরিনাকে দেখা যায়।পরে তার মেয়ের চিৎকার চেচামেচিতে এলাকাবাসী ছুটে যায়। এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান,স্বামী স্ত্রী ঝগড়াঝাটির কারণে অভিমানে হয়তো সে আত্মহত্যা করেছেন।তবে মৃত্যু জরিনার বাবার পরিবারের অভিযোগ তাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী মৃত্যু জরিনার মেয়ে নার্গিস বেগম জানায়,সকালে আমার আম্মু ও আব্বুর সাথে কথা হয়েছে। আব্বু পাকেরহাট বাজারে গেলো।আম্মুকে বললাম আমাকে অসুস্থতা খারাপ লাগেছে।তখন আম্মু বললো তুই ঘুমাতে যা।ঘুম থেকে উঠে পানি খেয়ে দেখি আম্মুর ঘরের দরজা খোলা। কাছে গিয়ে দেখি আম্মু ঝুলে আছে। এরপর আম্মুকে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছি।এরপর আমার কান্নাকাটি ও চিৎকার চেচামেচিতে এলাকাবাসী ছুটে আসে। সে আরও জানায়,তার বড়ো ভাই থাকে ঢাকায়,পরিবারের অন্যান্য সদস্য গণ একটি মামলায় হাজিরা দিতে সকালেই দিনাজপুরে গিয়েছে। খানসামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমুল হক জানান,পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রাথমিক সুরতহাল শেষে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনা টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।তার স্বামী পলাতক রয়েছেন এবং তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।